বারাসাত স্টেডিয়াম নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ, এরকম অচলাবস্থা আগে দেখেনি বারাসাত ক্রীড়ামোদী মানুষেরা

0
90

নিজস্ব সংবাদদাতা :: নিউজ ২০ টোয়েন্টি :: ১৭ মার্চ :: বারাসাত :: কৌলীন্য হারানো বারাসাত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন কে ঘিরে এখন হাজার প্রশ্নচিহ্ন । স্টেডিয়ামের চারদিকে ইঁট বালি পাথরের স্তুপ ।ফুটবলের জন্য খ্যাতি ছিল বারাসাত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনের ।এখন মাঠের চারপাশে ছোটো বড় পাথর ও বালি ।যে মাঠে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের ভিড় দৈনন্দিন লেগে থাকত সেখানে সারিবদ্ধ ঢালাই যন্ত্রের পাশে রাজমিস্ত্রীদের ভিড় । দীর্ঘ সময় ধরে ফুটবল সহ যেকোনো খেলাই বন্ধ । জেলার ক্রীড়াপ্রেমীরা বড় মাপের খেলা দেখার যে বারাসাত স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকতেন সেই স্টেডিয়ামে কবে আবার খেলা হবে তার স্থিরতা নেই । দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না কবে আবার কোনো খেলার দায়িত্ব পাবে বারাসাতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন।

বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন দেড় দু বছর আগেও বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতা যেমন আই লীগ , কলকাতা লীগ , আই এফ এ শিল্ড লেগে থাকত । প্র্যাকটিস সেশন করতে দেখা গেছে এটিকের মত দলকে । আই এফ এ শিল্ডে দুবছর আগেও বিদেশ থেকে প্রচুর নামী দল দর্শকদের মাতিয়েছেন । অথচ আচমকাই বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনকে যেন ঢেকে দিয়েছে বিস্মৃতির অন্ধকার ।
বারাসাতের স্টেডিয়াম ও মাঠ ঘিরে এরকম অচলাবস্থা আগে দেখে নি বারাসাতের ক্রীড়ামোদী মানুষেরা ।বারাসাতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে কয়েক বছর আগেই । আর এই প্রশ্নের মূলে ছিলো অ্যাস্ট্রোটার্ফ মাঠ । প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে সময় নিয়ে বারাসাতের মাঠে বসানো হয়েছিল কৃত্রিম ঘাস । কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র বড়মাপের ফুটবল প্রতিযোগিতা কার্যত ঘাষের মাঠ ছাড়া অ্যাস্ট্রোটার্ফে না হওয়ার বিষয় চালু হতেই প্রশ্নচিহ্ন ওঠে বারাসাত স্টেডিয়ামকে ঘিরে ।

অনুর্ধ্ব ১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের আগে যুবভারতী অ্যাস্ট্রোটার্ফ থেকে ঘাসের মাঠে পাল্টাতেই কুড়ি কিলোমিটার দূরের বারাসাত মাঠ আরো ব্রাত্য হয়ে পড়ে । তাও জাতীয় স্তরে দু একটি ম্যাচ সংগঠন করার দায়িত্ব পাচ্ছিল বারাসাত । কিন্তু খেলোয়াড়দের চোট আঘাত প্রবণতা কৃত্রিম ঘাসের মাঠে বাড়তেই বড় খেলা আর হয় না এখানে । আই এফ এ ও বড় দল গুলিও দ্বিতীয় পছন্দের মাঠ হিসেবে গণ্য করে কল্যাণী স্টেডিয়ামকে । এই ফাঁকে দর্শকদের একটি মাত্র প্রবেশদ্বার থাকা ও খারাপ গ্যালারী যুক্ত বারাসাত মাঠ সারানোর কাজে হাত দেয় রাজ্যসরকারের কাছে টাকা পেয়ে । কিন্তু সেই কাজের শুরু হলেও শেষ যেন আর হয় না । মাঠের আপাত দায়িত্ব আই এফ এ মারফত জেলা পরিষদ হয়ে বারাসাত পৌরসভার । এখন দায়িত্ব বর্তেছে পৌরসভার স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখার্জীর ওপরে । সুনীল মুখার্জী বলছেন সময় দিতেই হবে কিন্তু সময়টা ঠিক কতটা তিনি বলতে পারছেন না ।
বারাসাত মাঠ ও স্টেডিয়াম নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ , স্টেডিয়ামের সঙ্গে যুক্ত কর্মী বা প্রাক্তন বর্তমান ফুটবলাররা । কবে বারাসাত স্টেডিয়াম নিয়ে অচলাবস্থা কাটবে বলতে পারছেন না বারাসাতের বিধায়ক চিরন্জিত চক্রবর্তীও ।

তবে চিরণ্জিত বা মাঠের দায়িত্বে থাকা পৌরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখার্জী পরিষ্কার করে দিলেন অ্যাস্ট্রোটার্ফ থেকেই যাবে ।গ্রাস টার্ফ অদূর ভবিষ্যৎ কালে হচ্ছে না । খালি গ্যালারি ও স্টেডিয়াম সংস্কার হবে ।প্লেয়ারস ড্রেসিং রুম সংস্কার হবে । কিন্তু ঘাসের মাঠ হচ্ছে না । অতএব নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় বড় খেলার দায়িত্ব পাবে না বারাসাত।এটিকে -মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল কে বারাসাতে আগামী কিছু দিনে দেখা যাবে না । মাঠ কাঁপাতে দেখা যাবে সুনীল ছেত্রী, প্রীতম কোটালদের । বলাই বাহুল্য অ্যাস্ট্রোটার্ফ মাঠের স্ট্যাটাস বজায় রাখা বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনের কৌলীন্য ফিরছে না ।মাঠের সংস্কার কার্য যবেই সম্পূর্ণ হোক বারাসাত স্টেডিয়ামের সুদিন আর হালে ফিরছে না তা একপ্রকার নিশ্চিত ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here