একটি আশার আলো ভারতের ডাক বিভাগ – কি ভাবে জীবনরক্ষক হয়ে উঠল !

0
84

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: নিউজ ২০ টোয়েন্টি :: ১৫ই,এপ্রিল :: কোলকাতা :: ভারতের ৬ লাখ গ্রামে ডাকঘর বা পোস্ট অফিস আছে। বলা হয়ে থাকে, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডাকসেবা। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ভারতজুড়ে যখন লকডাউন, স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির, সে সময় ডাক বিভাগ এগিয়ে এল। দেশজুড়ে ওষুধসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছে তারা। ভূমিকা রাখছে মানুষের জীবন বাঁচাতে। করোনা বিঘ্নিত ভারতের ডাক বিভাগের জীবনরক্ষক বনে যাওয়ার গল্প প্রকাশ্যে এলো ।

ডাক বিভাগ মূলত চিঠি আর পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। এর বাইরে তাদের ব্যাংক, পেনশন তহবিল ও প্রাথমিক সঞ্চয় রাখার সুবিধা আছে। ক্ষুদ্র আয়ের লাখ লাখ মানুষ ডাক বিভাগের এসব সেবা নিয়ে থাকেন। এসবের বাইরে ডাক বিভাগ এখন জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ সরবরাহের কাজ করছে। মানুষের জীবনের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এসব জিনিস তারা এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে, রাজ্যের শহর থেকে গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছে যত্ন নিয়ে।করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ ভারতে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘোষণা থেকে কার্যকরের মধ্যে সময় পাওয়া যায় মাত্র ৪ ঘণ্টা। ফলে হাসপাতাল, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও ল্যাবগুলো ঝামেলার মধ্যে পড়ে যায়। কারণ, তাদের অতি প্রয়োজনীয় পণ্য রাস্তায় আটকা পড়ে।

ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক অশোক কুমার মদন বলেন, ‘হঠাৎ লকডাউনে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ প্রস্তুকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপদে পড়ে যায়। নানা ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। আমরা পণ্যের সরবরাহের জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করি। তাদের মাধ্যমেই পণ্যগুলো গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো হয়।

কিন্তু লকডাউন শুরুর পর কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো আর কাজটা করতে পারছিল না। হয়তো লকডাউনে পণ্য সরবরাহের পাস তাদের নেই কিংবা এই সংকটে তাদের ডেলিভারি দেওয়ার লোক নেই। ফলে হৃদ্‌রোগ বা ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার জরুরি ওষুধগুলো সরবরাহ করা যাচ্ছিল না। তখন এগিয়ে আসে ডাক বিভাগ।’ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ডাক বিভাগ যৌথভাবে গুজরাটে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশেও একই ধরনের সেবা চালুর জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অলক ওঝা। এমন একটি চমৎকার সমাধানের পথ পেয়ে স্বস্তি পান অশোক কুমার মদন। তিনি বলেন, ডাক বিভাগের কার্যক্রম লকডাউনের আওতামুক্ত। ফলে ওষুধের মতো জরুরি পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে এগিয়ে আর কেউ নেই।

ডাক বিভাগের মাধ্যমে ওষুধের মতো জরুরি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে—এমন খবর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ তাদের নম্বরে কল করে বিপদের দিনে সাহায্য চান। ডাক বিভাগের অলক ওঝা বলছিলেন, ‘আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী। দেশের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমাদের সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ আছে। ফলে আমরা ওষুধের মতো জরুরি পণ্য সরবরাহের কথা চিন্তা করলাম। কারণ, বাজারে সরবরাহ ঠিক থাকলে ওষুধের বাজার সচল থাকবে। মজুত করার প্রয়োজন হবে না। ওষুধের দামও ঠিক থাকবে।’উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে অবস্থিত সঞ্জয় গান্ধী পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সের অণুজীব বিজ্ঞানী উজালা ঘোষাল বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্ত করার কিট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেগুলো লকডাউনের কারণে দিল্লিতে আটকা পড়ে। পরে তিনি ডাক বিভাগের সহায়তায় কিটগুলো পান।

ভারতে লকডাউনের মেয়াদ আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই সময়ে ডাক বিভাগ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলা আশা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here